*অরুয়াইল যেন বাজার নয়, মিনি এক বন্দর* মিঞা মোঃ এলাহি

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০
সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
“অরুয়াইল যেন গ্রামের কোন বাজার নয়, যেন মিনি এক বন্দর”।
ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার সরাইল উপজেলার ভাটি অঞ্চল নামে খ্যাত অরুয়াইল বাজারের কথা বলছি।
শিল্প নগরী নয়, বন্দর নগরী নয়।  এক নিভৃত পল্লীর হাওড় এলাকার একটি বাজার। দুই দশক আগেও এটি ছিল নিতান্ত, চাল, ডাল, তেল, লবন, তরিতরকারীসহ বিভিন্ন নিত্য পণ্য কেনা বেচার এক সাধারণ বাজার।
সেই বাজার আজ শুধু পণ্য সামগ্রী কেনা বেচার সাপ্তাহিক বাজার নয়। ইতিমধ্যে বাজারটি একটি মিনি বন্দর হিসেবে সকলের কাছেই স্বীকৃতি লাভ করেছে। সাথে সাথে বাজারে নানা রকম অফিস, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক,  অসংখ্য আবাসিক ভবন বাজারটিকে রীতিমতো একটি ছোটখাট শহরে রুপ দান করেছে।
এক সময় রবিবার ও বৃহস্পতিবার এই দুই দিন বাজার বসত। বর্তমানে সপ্তাহের প্রতিদিনই বাজারে এত বেশি লোক সমাগম হয় যে বোঝার উপায় নেই কোন দিনটি আসলে হাঁটের দিন।
এই বাজারটির উন্নয়নের অনেকগুলো সূচকের মধ্যে স্টিল বডি ট্রলারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন শত শত স্টিল-বডি ট্রলার কোটি কোটি টাকার মালামাল নিয়ে বাজার ঘাটে আসছে। আবার ছেড়েও যাচ্ছে।ট্রলারগুলোর এক একটার নির্মান ব্যয় ষাট-সত্তর লক্ষ টাকা থেকে দুই-তিন কোটি টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
এসব ট্রলারগুলোতে কাজ করছে হাজার হাজার অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত লোকজন যা পুরো এলাকার বেকারত্ব নিরসনে নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সব চেয়ে বড় বিষয় হল ট্রলারগুলো অরুয়াইল বাজার ও এর আশেপাশে স্থানীয়ভাবে নির্মান করা হচ্ছে। আরও অবাক করার বিষয় হল, বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ন্যূনতম প্রতিষ্ঠানিক জ্ঞান ছাড়াই নির্মানকর্মীরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই সমস্ত ট্রলারগুলো নির্মান করছে। ডক-ইয়ার্ডগুলোতে কাজ করছে শত শত শ্রমিক ও টেকনিশিয়ান যাদেরকে আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।
আর একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়।  সেটি হল ট্রলালের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বাজারে ট্রলারের নানা রকম যন্ত্রাংশ নির্ভর ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।  সবকিছু মিলিয়ে অরুয়াইল বাজার আসলেই যেন একটি বন্দরে রূপ নিয়েছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অরুয়াইলের ট্রলার শিল্প শুধু অরুয়াইল নয় সারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ।
১২/৭/২০২০

Categories