অবসর ও কল্যান তহবিলের গচ্ছিত অর্থ শিক্ষকদের নিজ নিজ একাউন্টে প্রেরণের ব্যবস্থা চাই।

প্রকাশিত: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০
মো.আবুল হোসেন,মুন্সীগঞ্জ।।
একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক চাকরি শেষে অবসরে যায় নিরাপত্তাহীন জীবন নিয়ে। বাস্তব সত্য কথা হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোর মুখ দেখাতে ব্যস্ত থাকে। উন্নত জাতি গঠনে ব্যস্ত থাকে। দেশের উন্নয়নে শিক্ষিত জাতি গঠনে দিনরাত পরিশ্রম করে যায় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ। বিনিময়ে পায় সর্বক্ষেত্রে অবহেলা। নেই পেনশনের সুযোগ সুবিধা। চাকরি জীবন শেষে পায় অবসর ও কল্যান তহবিল নামে সর্বমোট ১০০ মাসের বেতন পাবে সর্বশেষ স্কেলের সমান টাকা। এই সুযোগ সুবিধা ছাড়া আর কিছু নয়। যেখানে একজন সরকারি চাকরিজীবী পেনশনের সুযোগ সুবিধা পায়। আর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পায় পেনশনের সুযোগ সুবিধা। আর বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এককালীন পাবে অবসর ও কল্যান তহবিলের সুযোগ সুবিধা। এই অবসর ও কল্যান তহবিলের টাকা উত্তোলন করতে একজন শিক্ষকের অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘদিন। ফাইল পরে থাকে দীর্ঘ লাইনে। একজন শিক্ষক যখন অবসরে যায় তার শেষ সম্বল বলতে সেই অবসর ও কল্যান তহবিলের টাকা। অবসরে যাওয়ার পর একজন শিক্ষক  এই পৃথিবীতে যতদিন বেচে থাকবে শেষ সম্বল বলতে শুধু অবসর ও কল্যান তহবিলের টাকা ছাড়া কিছুই থাকে না। কাজ করার সামর্থ্য থাকে না। আয় উপার্জনের অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা থাকে না। বৃদ্ধ বয়সে আর কি করা যাবে?  অবসরে যাওয়ার পর একজন শিক্ষককে তাই মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দেখলাম একজন শিক্ষক টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আমি উনার আত্মার শান্তি কামনা করি। ঐ শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও নিজের সরকারি অংশ থেকে কেটে নেওয়া গচ্ছিত অর্থ নিজের দুঃসময়ে কাজে লাগাতে পারল না এটা সত্যিই বেদনাদায়ক ঘটনা। প্রতিটি মাসে কেটে নেওয়া টাকা, শেষ সময়ে এসে উত্তোলন করতেও বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে এমনটা কেন? এই কর্তনকৃত টাকা অবসরে যাওয়ার সাথে সাথে প্রতিটি শিক্ষকের নিজ নিজ একাউন্টে প্রেরণের জন্য বিনীত অনুরোধ রইল কতৃপক্ষের নিকট।
  এই অবসর ও কল্যান তহবিলের  টাকা দিয়েই চলতে হবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে। অবসর ও কল্যান তহবিলের টাকা   উত্তোলন করতে একজন শিক্ষকের যদি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় তাহলে বলুন সেই শিক্ষকের বাস্তব জীবন চলবে কীভাবে?
এই প্রাচীন প্রথা বিরাজমান থাকার কারণে  বেসরকারি শিক্ষকদের জীবন আজ হতাশায় নিমজ্জিত।  চাকরির শেষে নেই জীবনের নিরাপত্তা। বৈষম্যে মধ্যে অতিবাহিত করতে হয় বাস্তব জীবন। দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছে এবং উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। তবুও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বৈষম্যের বেড়াজালে হাবুডুবু খাচ্ছে।  এই ডিজিটাল যুগেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা রয়ে গেল  এনালগ যুগ। সরকার যেহেতু বর্তমান যুগকে ডিজিটাল যুগ ঘোষণা করেছেন সে ক্ষেত্রে এমন ঘটনা সত্যিই হতাশাজনক । বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক মানে অবহেলিত এটার প্রমান পাওয়া যায় অবসরে যাওয়ার পর। এই ডিজিটাল যুগে  তাই এনালগ প্রথার অবসান কামনা করি। যথাযথ মর্যাদায় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পেনশনের সুযোগ সুবিধা চাই। চাকরির শেষ সময়টুকু নিরাপদে থাকতে চাই।
 অবসরে যাওয়ার পর ফাইল জমা দেওয়ার পর   ফাইল পরে থাকে টেবিলে  কাজ হয় না। শুধু একটি কথাই বলে এইতো কাজ  হচ্ছে হয়ে যাবে। পরে শুধু তারিখ আর তারিখ এ যেন শেষ হবার নয়।
নেই বেতন,নেই ইনকাম আছে শুধু সীমাহীন দুর্ভোগ যার শেষ কখন তা জানার উপায় নেই।
 শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা। অবসর ও কল্যান তহবিলের টাকা উত্তোলন  যেন সোনার হরিণ পাওয়ার সামিল। সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষকরা যেখানে সমান ডিগ্রি ধারী এবং সরকারির চাইতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট অগ্রগামী সেখানে এই রকম বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি ন্যায় তাই বেসরকারি শিক্ষকদের পেনশনের ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি বর্তমান সময়ে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য । বর্তমান বিশ্বে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারি পূর্ণ সুযোগ সুবিধা পায়। শুধু মনে হচ্ছে বাংলাদেশেই চলছে বিভাজন।  চাকরির শেষে বেসরকারি শিক্ষকদের অসহায়ত্ব জীবনযাপন করতে হচ্ছে।  এই বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না। পূর্বে কর্তন করা হতো ৬শতাংশ হারে বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশ। এই কর্তনের ফলে সরকারি অংশের সিংহভাগ চলে যায় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের।
বর্তমানে আবার অতিরিক্ত ৪% কর্তন করিতেছে কোনো রকম বাড়তি সুযোগ  সুবিধা না দিয়ে। পূর্বের সুযোগ সুবিধাই বহাল আছে।  যা বর্তমান শিক্ষকদের ওপর  মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।
শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি এবং বেসরকারি এই বৈষম্য কাম্য নয়। এই বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা সহ সহানুভূতি চাই।
শিক্ষা ব্যবস্থা যেহেতু এক তাহলে বৈষম্য রেখে জাতির কল্যান হবে  কীভাবে ? কেউ পাবে পূর্নাঙ্গ সুযোগ সুবিধা আবার  কেউ পাবে অর্ধেক সুযোগ সুবিধা  এমনটা শিক্ষা ব্যবস্থায় কাম্য হতে পারে না।সরকারি ন্যায় বেসরকারি এমপিওভুক্ত  শিক্ষকদের পেনশনের সুযোগ সুবিধার আওতায় আনার  জন্য  জোর দাবি জানাচ্ছি দায়িত্ব প্রাপ্ত কতৃপক্ষের নিকট। আপনারা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে আমাদের  এ বৈষম্য দূরীকরণে উপযুক্ত  পদক্ষেপ গ্রহন করবেন এবং  বেসরকারি এমপিওভুক্ত  শিক্ষকদের দুঃখ লাঘবে  এগিয়ে আসবেন। আপনাদের এই অবদানের কথা শিক্ষক সমাজ স্মরণে রাখবে চিরকাল।
ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন
কুকুটিয়া কে, কে,ইনস্টিটিউশন
সহকারী শিক্ষক( গণিত)
শ্রীনগর,মুন্সিগঞ্জ
০১৯১৬২৯২৪৮৩
বি.দ্র. : মতামত একান্তই লেখকের নিজস্ব।তার সাথে কতৃপক্ষের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।