পদোন্নতি ও উচ্চতর স্কেলের বৈষম্যে ক্ষোভ প্রকাশ প্রভাষকদের

প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

অনুপাত প্রথা বাতিল করে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি, পদোন্নতি বিলম্বিতদের পূর্বের ন্যায় সরাসরি ৭ম গ্রেডে উন্নীতকরণ, পূর্বের ন্যায় ১২/১৫ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রভাষকদের অধ্যক্ষ/ উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ প্রদান, গ্রেড স্কেল স্বয়ংক্রিয় ভাবে পরিবর্তন ও মুজিব বর্ষে শিক্ষাব্যাবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে অদ্য ১লা জুলাই,২০২০ বুধবার বেলা ১১ ঘটিকায় পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষক সমাজের উদ্যেগে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। প্রভাষক জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রভাষক এম.এ. মতিন।স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক জ্যোতিষ মজুমদার। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মতলব হুসেন। মতামত ব্যাক্ত করেন সিনিয়র প্রভাষক রতন কুমার সরকার, মোঃ আব্দুল হালিম, প্রভাষক মনিরুল ইসলাম, প্রভাষক আশরাফুল লতিফ তুহিন, প্রভাষক মোহাম্মদ আলী শামিম, প্রভাষক রাফি শামিম, প্রভাষক জালাল উদ্দিন প্রমুখ।
লিখিত বক্তবে প্রভাষক এম.এ মতিন বলেন,
জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০১৮ এর কতিপয় ধারা শিক্ষকদের বিশেষ করে কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি কলেজের প্রভাষকদের চরম ভাবে হতাশ করেছে।২০১৮ এর এমপিও নীতিমালার ১১.৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “ এমপিওভূক্ত প্রভাষকগণ প্রভাষক পদে এমপিওভূক্তির ৮(আট) বছর পূর্তিতে ৫ঃ২ অনুপাতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবেন। এতে মোট পদসংখ্যা বৃদ্ধি পাবেনা। অন্য প্রভাষকগণ এমপিওভূক্তির ১০ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্তিতে বেতন গ্রেড ৯ থেকে ৮ প্রাপ্য হবেন। ….”
এই অনুচ্ছেদটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ৮ বছর পর একটি কলেজের ৭ জন প্রভাষকের মধ্য হতে ২ জনকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে (৬ষ্ঠ গ্রেডে) পদোন্নতি দেওয়া হবে। অর্থাৎ ২৮% সৌভাগ্যবান প্রভাষক শুধুমাত্র আগে যোগদান, এমপিওভূক্তি কিংবা বয়সে বড় হওয়ার কারণে সহকারী অধ্যাপক পদে (৬ষ্ঠ গ্রেড, বেতন স্কেল ৩৫৫০০) পদোন্নতি পাবেন। হতভাগা অবশিষ্ট ৭২% প্রভাষক ১০ বছর পর ৯ম গ্রেড(২২০০০) থেকে ৮ম গ্রেডে (২৩০০০) উন্নীত হবেন। প্রসঙ্গত, ৯ম গ্রেড থেকে ৮ম গ্রেডের ব্যাবধান মাত্র ১ হাজার টাকা। একই পদে একই যোগ্যতায় চাকুরি করে কারো ৮ বছর পরে পদোন্নতি সহ বেতন বাড়বে ১৩৫০০ টাকা আর অবশিষ্ট অধিকাংশের ক্ষেত্রে সারা জীবন পদোন্নতি তো পাবেনইনা বরং ১০ বছর বেতন বাড়বে মাত্র ১ হাজার টাকা! এ রকম কালো আইন বোধ হয় পৃথিবীর আর কািথাও নেই। অথচ ১৯৯৫ এর নীতিমালা অনুযায়ী প্রভাষকরা ২ বছর পূর্তিতে ৮ম গ্রেড(বর্তমান পে স্কেলে ২৩০০০ টাকা) এবং ৮ বছর পূর্তিতে ৭ম প্রেড (বর্তমান পে স্কেলে ২৯০০০ টাকা) পেতেন।২০১০ এর এমপিও নীতিমালায় ২ বছর পর ৮ম গ্রেডের বিধান পরিবর্তন করলেও ৮ বছর পর ৭ম গ্রেড বহাল রাখা হয়।(এমপিও নীতিমালা ২০১০, অনুচ্ছেদ ১১,.৪)।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি কলেজের প্রভাষকরা প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলেও এমপিওভূক্ত কলেজের প্রভাষকরা সারাজীবনে মাত্র একটি পদোন্নতি পান (সহকারী অধ্যাপক পদে) । তাও আবার অনুপাত প্রথার কারণে ৭২% প্রভাষক আজীবন একই পদে থেকে অবসরে যেতে হয়।দেখা যায় একজন বয়োবৃদ্ধ শিক্ষক অবসরের সময়েও প্রভাষক অথচ উনার ছাত্র সহকারী অধ্যাপক হয়ে গেছে। এ যে কত হৃদয় বিদারক তা একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো পক্ষে উপলব্ধি করা বোধ হয় সম্ভব নয়। আগের নীতিমালাগুলোতে পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকরা ২ বছর পর ৮ম গ্রেড এবং ৮ বছর পর ৭ম গ্রেড পেয়ে কিছুটা সান্ত্বনা পেতেন। কিন্তু ২০১৮ এর নীতিমালায় ১০ বছর পর ৮ম গ্রেড তথা ১ হাজার টাকা বৃদ্ধি করার বিধান করায় প্রভাষকদের শেষ ভরসাটুকুও আর রইলনা। প্রসঙ্গত ২০১০ এর জনবল কাঠামোর ১১(৫) ধারায় সহযোগী অধ্যাপক পদের কথা উল্লেখ থাকলেও ২০১৮ এর নীতিমালায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
২০১০ এর নীতিমালায় প্রভাষকরা ১২ বছরের অভিজ্ঞতায় উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ কিংবা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে এবং ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে পারতেন। কিন্তু ২০১৮ এর নীতিমালায় অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে ১২/১৫ বছরের অভিজ্ঞতার সাথে সহকারী অধ্যাপক পদে ৩ বছরের অভিজ্ঞতার বিধান করা হয়েছে। ফলে কপালদোষে যারা সহকারী অধ্যাপক হতে পারলেননা, তাদের ভাগ্যে আর কিছুই রইলনা।
গত বছরের ১২ নভেম্বর এমপিও নীতিমালা সংশোধনের লক্ষ্যে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে ১ মাসের ভিতরে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পেশ করার জন্য বলা হয়েছিল। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে নীতিমালা সংশোধন কমিটির কয়েকটি বৈঠকে উপর্যুক্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হলে প্রভাষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। তবে বেশকিছু দিন ধরে উক্ত কমিটির কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা।কিন্তু সম্প্রতি এমপিও নীতিমালা – ২০১৮ এ কোন পরিবর্তন না এনে উচ্চতর স্কেলের আবেদন চালু করায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি কলেজের প্রভাষকরা।১০ বছর চাকুরির পর ১ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে তারা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।
নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন
১) অনুপাত প্রথা (৫ঃ২) বাতিল করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর সকল প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে হবে।সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করতে হবে।
২) পদোন্নতি বিলম্বিত প্রভাষকদের ১০ বছর পূর্তিতে ৭ম গ্রেড প্রদান করতে হবে।
৩) ১২/১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রভাষকদের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ দিতে হবে।
৪) কোন প্রকার আবেদন ছাড়া সরাসরি শিক্ষকদের গ্রেড/স্কেল পরিবর্তন করতে হবে।
৫)সর্বোপরি মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে চলতি বছরেই শিক্ষাব্যাবস্থা জাতীয়করণ চাই।
তারা অবিলম্বে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও শিক্ষাসচিবের কাছে উদাত্ত আহবান জানান।


Categories