চরম বৈষম্যের শিকার এমপিওভুক্ত প্রভাষকরা

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

 

এমপিওভুক্ত বেসরকারী কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী কলেজের শিক্ষকদের বৈষম্য সৃষ্টিকারী অনুপাত প্রথা বিলুপ্ত করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর সকল প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি এবং ৯ম গ্রেড থেকে সরাসরি ৭ম গ্রেডে উচ্চতর স্কেলের দাবীতে অদ্য ৭ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জুম এ্যাপের মাধ্যমে কলেজ শিক্ষক পরিষদ, সিলেটের এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক জ্যোতিষ মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সহ সভাপতি প্রভাষক এম.এ.মতিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এটুআইয়ের সিলেট জেলা এ্যাম্বাসেডর প্রভাষক মোঃ শহিদুল ইসলাম, কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক শংকর কুমার তালুকদার, সহ সভাপতি প্রভাষক নন্দ কুমার রায়, প্রভাষক সঞ্জয় কুমার দেব, প্রভাষক ছয়ফুল আমিন, প্রভাষক প্রত্যুষ কুমার দাস প্রমুখ ।

বক্তারা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর বিভিন্ন অসঙ্গতিপূর্ণ ধারা তুলে ধরে অবিলম্বে উক্ত ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানান। তারা বলেন, এই নীতিমালায প্রভাষকরা প্রভাষকদের  চরম ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে । একদিকে ৮ বছর পর ৫ঃ২ তথা অনুপাত প্রথার ভিত্তিতে ৭জন প্রভাষকের মধ্যে ২জন প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি সহ ৬ষ্ঠ গ্রেড (৩৫,৫০০টাকা) পাবেন, অন্যদিকে অবশিষ্ট ৫ জন প্রভাষক সারাজীবন একই পদে থেকে অবসরে যাবেন । উক্ত ৫ জন তথা ৭২% প্রভাষক ১০ বছর পূর্তিতে ৮ম গ্রেড পাবেন, এতে তাদের বেতন বাড়বে মাত্র ১ হাজার টাকা।
এ রকম বৈষম্যমূলক নীতিমালার কারণে একই যোগ্যতায় একই পদে চাকুরী করে কারো ৮ বছর পরবেতন বাড়বে ১৩৫০০ টাকা আর অধিকাংশ প্রভাষকের ১০ বছর পর বেতন বাড়বে মাত্র ১ হাজার টাকা । যা সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক, অমানবিক এবং অপমানজনক। অথচ আগের নীতিমালা গুলোতে পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকরা ৮ বছর পর ৭ম গ্রেড পেতেন।
এছাড়া উক্ত নীতিমালায় প্রভাষক পদ থেকে অভিজ্ঞতা সাপেক্ষে অধ্যক্ষ / উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ আগের নীতিমালায় প্রভাষকরা ১২/১৫ বছর অভিজ্ঞতা থাকলে অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ পেতেন।

সভা থেকে সরকারের নিকট নিম্নোক্ত দাবী সমূহ পেশ করা হয়।
১. অনুপাত প্রথা বাতিল করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সকলকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদায়ন। ক্রমান্বয়ে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃজন।
২.পূর্বের ন্যায় প্রভাষকদের ৯ম গ্রেড থেকে সরাসরি ৭ম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
৩. ১২/১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় সকলকে উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ দেয়া ।
৪. কোনরুপ বাড়তি সুবিধা না দিয়ে অবস ও কল্যাণ ট্রাস্টে ৪% অতিরিক্ত কর্তন বাতিল করতে হবে।
৫. সর্বোপরি, শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূরীকরণে এমপিও ভূক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ ।
বক্তারা আগামী ৯ জুলাই এমপিও নীতিমালা সংশোধনী চুড়ান্তকরণের সভায় উপর্যুক্ত দাবিগুলো মেনে নিয়ে প্রভাষক খেকো এমপিও নীতিমালা-২০১৮ সকল অসঙ্গতিপূর্ণ ধারা বাতিল করার জোর দাবি জানান।


Categories