অনুপাত প্রথার বিলুপ্তি চান কলেজ শিক্ষকরা

প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

 

এমপিওভুক্ত বেসরকারী কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী কলেজের শিক্ষকদের বৈষম্য সৃষ্টিকারী অষ্টম গ্রেড সংশোধন ও অনুপাত প্রথা বিলুপ্তির দাবীতে জনাব জ্যোতিষ মজুমদারের সভাপতিত্বে ও জনাব জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধায় এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেসরকারী কলেজ,মাদ্রাসা ও কারিগরী কলেজের শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন। তাদের মধ্য থেকে রতন কুমার সরকার, রেহান উদ্দিন, এম এ মতিন, , মোঃ আব্দুল হালিম,এম এ মান্নান, মনিরুল ইসলাম, দেবাশীষ পাল, মোহাম্মদ আলী শামিম, রাফি শামীম, ছয়ফুল আমিন , মোঃ শহিদুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রউফ, নাসরুল্লাহ, মো. ওয়াসিকুর রহমান, আয়শা সিদ্দিকা, কামরুন্নাহার, , আতিকুর রহমান, জামাল উদ্দিন, আব্দুল গণি, ওবায়দুল্লাহ, মোঃ সগির হোসাইন, মোবারক হোসেন, তাজুল ইসলাম,সালাহ উদ্দিন, আব্দুল কাইয়ূম প্রমুখ বক্তব্য দেন ।
বক্তারা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর বিভিন্ন অসঙ্গতিপূর্ণ ধারা তুলে ধরে অবিলম্বে উক্ত ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানান। তারা বলেন, এই নীতিমালায প্রভাষকরা চরম ভাবে হতাশ। একদিকে ৮ বছর পর ৫ঃ২ তথা অনুপাত প্রথার ভিত্তিতে ৭জন প্রভাষকের মধ্যে ২জন প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি সহ ৬ষ্ঠ গ্রেড (৩৫,৫০০টাকা) পাবেন, অন্যদিকে অবশিষ্ট ৫ জন প্রভাষক সারাজীবন একই পদে থেকে অবসরে যাবেন । উক্ত ৫ জন তথা ৭২% প্রভাষক ১০ বছর পূর্তিতে ৮ম গ্রেড পাবেন, এতে তাদের বেতন বাড়বে মাত্র ১ হাজার টাকা।
এ রকম বৈষম্যমূলক নীতিমালার কারণে একই যোগ্যতায় একই পদে চাকুরী করে কারো ৮ বছর পরবেতন বাড়বে ১৩৫০০ টাকা আর অধিকাংশ প্রভাষকের ১০ বছর পর বেতন বাড়বে মাত্র ১ হাজার টাকা । যা সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক, অমানবিক এবং অপমানজনক। অথচ আগের নীতিমালা গুলোতে পদোন্নতি বঞ্চিত প্রভাষকরা ৮ বছর পর ৭ম গ্রেড পেতেন।
এছাড়া উক্ত নীতিমালায় প্রভাষক পদ থেকে অভিজ্ঞতা সাপেক্ষে অধ্যক্ষ / উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ আগের নীতিমালায় প্রভাষকরা ১২/১৫ বছর অভিজ্ঞতা থাকলে অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ পেতেন।

সভা থেকে সরকারের নিকট নিম্নোক্ত দাবী সমূহ পেশ করা হয়।
১. অনুপাত প্রথা বাতিল করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সকলকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদায়ন। ক্রমান্বয়ে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃজন।
২.পূর্বের ন্যায় প্রভাষকদের ৯ম গ্রেড থেকে সরাসরি ৭ম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
৩. ১২/১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় সকলকে উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ দেয়া ।
৪. গ্রেড/স্কেল পরিবর্তনে হয়রানি রোধে বারবার আবেদনের পরিবর্তে অটো গ্রেড/স্কেল পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা ।
৫. সর্বোপরি, শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূরীকরণে এমপিও ভূক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ ।
সভায় আগামী সাতদিনের মধ্যে সকল শিক্ষক সংগঠন, শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইমেইলের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এছাড়া আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতা ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি