অতিরিক্ত শপিং কমাবেন যেভাবে

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০
ঘন ঘন জিনিস কেনার প্রবণতা দেখা যায় অনেকের মধ্যে। সুপারশপ বা কোম্পানিগুলোর নানা অফারে লোভ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অনেক সময় মাসের অর্ধেকেই ফুরিয়ে যায় বেতনের টাকা।

এমন অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমরা কমবেশি পরিচিত। অনেকের মধ্যে এই প্রবণতা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়। এটাও কিন্তু এক ধরণের মানসিক সমস্যা, যা অনেকে স্বীকার করতে চায় না।

এখন সবসময় কেনাকাটার স্বভাব থেকে মুক্তি পাবেন কী করে? ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছে।

প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা করা 

কোনো কিছু কেনার আগে আগে ভাবুন, আসলেই সেটি আপনার প্রয়োজন কী না। শপিং মলে যাওয়ার আগে তালিকা করুন, কী কী না কিনলেই নয়। মাসে দুই বারের বেশি বাজারে বা শপিং মল যাবেন না। চেষ্টা করুন মাসে একবার যেতে। তালিকার বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করবেন না।

মাসের শুরুতে বাজেট করে নিন মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ার পর বাজার বা কেনাকাটার জন্য মাসিক বাজেট করে নিন। সেই বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটা করুন। কোনোভাবেই বাজেট পেরোতে দেবেন না। কারণ বাজেট তৈরির সময় কিছুটা সঞ্চয় রাখা হয়। বাজেটের বাইরে খরচ করলে সঞ্চয়ের টাকা থেকে টান পড়ে।

ক্রেডিট কার্ড ব্যালেন্স চেক করুন

এখন তো বেশিরভাগ কেনাকাটাই হয় অনলাইন করা হয়, নয়তো দোকানে গিয়ে ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ডে পে করা হয়। মানিব্যাগের টাকা খরচা হচ্ছে না বলে অনেক সময় অনলাইনে এসব খরচাপাতির দিকে খেয়াল থাকে না অনেকের। এতে লাগামছাড়া খরচ হয়ে যায়। সপ্তাহে দু’দিন অন্তর অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ে ট্রাঞ্জাকশনের দিকে খেয়াল করুন।

ঝোঁকে পড়ে কেনাকাটা নয়

দুটি কিনলে পাঁচটি ফ্রি, এই ধরণের লোভনীয় অফারের ফাঁদে পা দেবেন না একেবারেই। ধরুন, দুটি হাতঘড়ির সঙ্গে ৩ টি বিদেশি পার্ফিউম পাওয়া যাচ্ছে বিনামূল্যে। এবার এই অফারটি আকর্ষণীয় লাগছে বলেই কিন্তু কিনতে যাবেন আপনি। অথচ আপনার কিন্তু ঘড়ি অথবা পার্ফিউম কোনটিরই প্রয়োজন নেই এই মুহূর্তে। কিন্তু নিজেকে কেনাকাটা থেকে বিরত রাখতে না পেরে লোভে পড়েই কিনে নিলেন এক জোড়া ঘড়ি, সঙ্গে তিন তিনটা পার্ফিউমের সেট। এবার সেই ঘড়ির সঙ্গে মানানসই পোশাক কিনবেন। পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতো। এরকম চলতেই থাকবে। একবার এই ফাঁদে পড়লে বেরনো খুব মুশকিল।

বিজ্ঞাপন দেখলেই এড়িয়ে যান

রাস্তাঘাটে, মোবাইলে, অনলাইনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যত্রতত্র নানা পণ্য সামগ্রীর বিজ্ঞাপন দেখতে পান আপনি। আর সে সব দেখে আপনার চাহিদা তৈরি হয়। বাজার কিন্তু আমাদের মধ্যে এই চাহিদাটাই তৈরি করে দিতে চায়। এবং আপনার সত্যিকারের প্রয়োজনের তুলনায় চাহিদার তালিকাটা ক্রমশ লম্বা হতে থাকে। তাই এসব বিজ্ঞাপন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।